এবার তারা কোথাই ?????

 এবার কি সবাই জামা কাপড়  খুলে ছবি তলে ফেসবুক এ দিবে ????

পিটিয়ে প্রধান শিক্ষকের জামা খুলে নিল আ’লীগ কর্মীরা

চট্টগ্রামে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষ থেকে বের করে বেধড়ক মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

শনিবার দুপুরে চন্দনাইশ উপজেলার জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত প্রধান শিক্ষকের নাম রহিম উদ্দিন।

উপজেলার বৈলতলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি কবির আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিক ভোটে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত না হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই সভাপতি প্রার্থী আনোয়ার মোস্তফা দুলালের লোকজন এ হামলার ঘটনা ঘটায়।

পরে চন্দনাইশ থানা পুলিশ গিয়ে ওই প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেন।

এ সময় সন্ত্রাসীরা প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে ভাংচুর ও তাণ্ডব চালায়।

এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা-কর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন আহত প্রধান শিক্ষক।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চন্দনাইশের বৈলতলী ইউনিয়নে অবস্থিত জাফরবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১৪ মে।

শনিবার পূর্ব নির্ধারিত তারিখে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নুরুল মোস্তফা ও আনোয়ার মোস্তফা দুলাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত অপর ১১ সদস্যের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। মাধ্যমিক স্কুল পরিদর্শক আবু কাওসারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে দেখা গেছে, নুরুল মোস্তফা পেয়েছেন ৮ ভোট। আর আনোয়ার মোস্তফা দুলাল পেয়েছেন মাত্র ৩ ভোট। দুপুর ১টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

আনোয়ার মোস্তফা দুলাল বৈলতলী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী। ২৮ মে এ ইউনিয়নের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র জানান, চেয়ারম্যান নির্বাচনের আগে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটিতে পরাজিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন মাত্র  ৩ ভোট পাওয়া আনোয়ার মোস্তফা দুলাল। তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রহিম উদ্দিনের কারণেই পরাজিত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

এ সময় আনোয়ার মোস্তফা দুলালের অনুসারী স্থানীয় আওয়ামী লীগ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত মো. আলীর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে ভাংচুর শুরু করে।

একপর্যায়ে তারা প্রধান শিক্ষক রহিম উদ্দিনকে তার কার্যালয় থেকে শার্টের কলার চেপে ধরে বের করে এনে স্কুলের মাঠে মারধর করতে থাকে।

হামলার সময় বৈলতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি  কবির আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতেই সরকারি দলের নেতাকর্মীরা প্রধান শিক্ষককে মারধর করতে থাকে। হামলাকারীরা প্রধান শিক্ষকের পরনের শার্ট ও গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলে।

খবর পেয়ে চন্দনাইশ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেন।

পরে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিদা শারমিন স্কুলে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের প্রতি সমবেদনা জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

আক্রান্ত প্রধান শিক্ষক রহিম উদ্দিন সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগ আনায় আমি নিজে সভাপতি নির্বাচনের ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকি।’

‘এর পরও আমাকে দায়ী করে আনোয়ার মোস্তফা দুলালের লোকজন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতে আমাকে মারধর করে, লাঞ্ছিত করে। শত শত মানুষের সামনে আমাকে বেইজ্জত করে’ বলেন তিনি।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক হামলায় সরাসরি অংশ নেয়া আওয়ামী লীগ ক্যাডার মোহাম্মদ আলীকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করবেন বলেও জানান।

চন্দনাইশ থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা আবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলামও জানেন। তিনি মামলা রেকর্ড করার নির্দেষ দিয়েসেন

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s